রাজউক’র ইমারত পরিদর্শক তারিফুরের সীমাহীন দুর্নীতি! ( পর্ব-১) *মদ, জুয়া ও নারীদের পেছনেই প্রতিমাসে খরচ করে লাখ লাখ টাকা!
নিজস্ব প্রতিবেদক
এমন কোনো অপরাধ নেই যা করেন না রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক তারিফুর রহমান। দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেছে অর্থ-সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট কিনেছে। পার্টনারশীপে বিপুল পরিমান টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায়ও করছেন এই তারিফুর রহমান। দেশের বাইরেও প্রচুর টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়- নারী, জুয়া ও মদের পিছনেই প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি এক ডান্সার মেয়ের সাথে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে বলেও জানা গেছে। তারিফুরের স্ত্রী রাজধানীর একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করেন। তার স্ত্রীর অগোচরে প্রতিনিয়ত রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও বারে নারীদের সঙ্গে ফূর্তি করে এবং জুয়া খেলে। এসবের টাকা আসে তার দুর্নীতির মাধ্যমে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক বলে সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লেিগর পক্ষে অবস্থান ছিল তার। একাধিক বিশ্বস্থ সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, রামপুরা ওয়াপদা রোডের ১৫৮/৪ প্লটের উপর মাজিদ ট্রেস নামে নির্মিত ইনোসিস নামক ডেভলপার কোম্পানীর ৯ তলায় লিফট এর ডান পাশে ১৮০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় ক্রয় করে তারিফুর রহমান বসবাস করছেন। সম্প্রতি ফ্ল্যাটটিতে ৩০ লাখ টাকার ইন্টেরিয়রের কাজ করিয়েছেন। ডেভলোপার কোম্পানির তথ্যমতে- সব লেনদেন রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক তারিফুর রহমান নিজ হাতে করছেন। এছাড়া রামপুরা ওমর আলী লেনে ১২/৪৭৮ এর ৪ তলায় ৯৫০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট ও এরর পাশেই এগ্জিউ ডেভলপার এর ৩ তলায় ১৪০০ স্কয়ার ফুটের আরো একটি ফ্ল্যাট তিনি ক্রয় করেছেন। ওই দুটি প্ল্যাটের দামও প্রায় ২ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়- আফতাবনগরে তার রয়েছে দুটি প্লট, একটি এ আছে ২টি ২.৫ কাটার প্লট এবং আরেকটি ৩ কাটার প্লট।
অভিযোগ রয়েছে, তারিফুর রহমান পল্টনের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়মিত জুয়া খেলে, মদ পান করে এবং বিভিন্ন নারী নিয়ে রাজকীয় জীবন যাপন করেন। এছাড়া প্রায় রাতেই নাচ-গান-মদ পান করেন হোটেল ফার্স, হোটেল ৭১, হোটেল সোনারগাঁও, বাংলামোটরের চালেট নামক বারসহ বনানীর সেরিনা লকি বারে নিয়মিত যাতায়াত তার। সেখানে তার নারী বান্ধবীর অভাব নেই। কিছুদিন আগে এক বার ডান্সার এর জালে আটকা পরে তারিফুর রহমানকে দিতে লক্ষ টাকা। দুদকে তার নামে আছে একাধিক অভিযোগ। বর্তমানে জুয়ার আসর বসান রামপুরা হাজীপাড়ার একটি ভবনের ৩ তলায়। সেখানে তার নিজস্ব ট্রাভেল এজেন্সির অফিসও রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র উপরের এসব অভিযোগই নয়, দুর্নীতিবাজ এই তারিফুরের বিরুদ্ধে চলছে চিরুনি অভিযান। দুর্নীতি ও অনিয়মের ধারাবাহিম প্রতিবিদনে যা তুলে ধরা হবে।