Log In

সিলেট বিমানবন্দরে ব্যাগেজ রুলের অপব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় আনার দাবি সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত শেখরকে

সিলেট বিমানবন্দরে ব্যাগেজ রুলের অপব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় আনার দাবি সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত শেখরকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট কাস্টমস হাউসের অধীন বিমানবন্দরে ব্যাগেজ রুলের সুযোগ নিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের অভিযোগ ঘিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশ থেকে আসা ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত পণ্য যাত্রীদের ব্যক্তিগত ব্যাগেজ হিসেবে দেখিয়ে প্রতি কেজিতে মাত্র ১৫০ টাকা শুল্ক পরিশোধে খালাস করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সিলেট কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত শেখরের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পণ্যের কিছু চালান বাণিজ্যিক আমদানির বৈশিষ্ট্য বহন করলেও সেগুলো ব্যাগেজ রুলের আওতায় খালাসের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় শুল্ক-কর যথাযথভাবে আদায় হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

বড় চালান, ছোট শুল্ক—যাচাইয়ের দাবি: অভিযোগ অনুযায়ী, কাতার, সৌদি আরব, দুবাই ও লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা চালানে প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, দুধ, কাপড়চোপড়, ঘড়ি, ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কিছু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা হয়ে থাকলে সেগুলো ব্যক্তিগত ব্যাগেজ হিসেবে ঘোষণা করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত শেখরের দায়িত্বাধীন কার্যক্রমে এসব চালান কীভাবে শুল্কায়ন ও খালাসের অনুমোদন পেয়েছে, তা প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

★ ৪০০–৫০০ কেজি পণ্য নামমাত্র শুল্কে খালাসের অভিযোগ

★ রাজস্ব ক্ষতি ও স্বর্ণ চোরাচালানে সহযোগিতার দাবি

শুল্কহারের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন: অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু চালানে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা শুল্ক দিয়ে পণ্য খালাসের ঘটনা রয়েছে। এর বিপরীতে ঢাকার বিমানবন্দরে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৫৬০ টাকা শুল্ক নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁরা শুল্ক নির্ধারণের পদ্ধতিতে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নিষিদ্ধ পণ্য ও স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ে অভিযোগ : অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, কিছু চালানে নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ পণ্য খালাসের অভিযোগ রয়েছে। গৌরী ক্রিম ও যৌনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পণ্যের পাশাপাশি স্বর্ণ চোরাচালানে সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

কাস্টমসের নথি নিরীক্ষার আহ্বান : অভিযোগকারীরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সিলেট বিমানবন্দরে ব্যাগেজ রুলের আওতায় খালাস হওয়া বড় চালানগুলো ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার আওতায় আনা, শুল্ক নির্ধারণের হিসাব পরীক্ষা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের মতে, তদন্তে বিধিবহির্ভূত খালাস, শুল্ক ফাঁকি কিংবা নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা প্রয়োজন।

এসব বিষয়ে সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত শেখরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বংলার জামিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *